গোবিন্দগঞ্জ সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুকে গোবিন্দগঞ্জের ফেরদৌস আলম রাজুর আবেগঘন স্ট্যাটাস


মাইনিউজ৭১ডেস্ক: পঞ্চম গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফেরদৌস আলম রাজু। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও আওয়ামী লীগ প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থার উপর আস্থাশীল হয়ে মনোনীত প্রার্থীর পাশে দাঁড়াতে আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। রবিবার রাত পনে নয়টার দিকে তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে এই স্ট্যাটাস দেন। মহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তাঁর দেওয়া স্ট্যাটাস। রাজনীতিতে সে শিষ্টাচার দেখা যায় না সেই শিষ্টাচারের বিরল দৃষ্টান্ত রেখে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার আহবান জানান। গোবিখবরের ভিজিটিরদের জন্য ফেরদৌস আলম রাজুর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলোঃ প্রিয় গোবিন্দগন্জবাসি ক্লাস নাইনে পড়া অবস্থায় ১৯৮২ সালে, যখন প্রকাশ্যে রাজনীতি করা নিষিদ্ধ , স্বৈরাচার বিরোধী আন্দলন যখন দানা বেধে উঠছে ঠিক তখন , বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের “ রাজনীতিতে আমার হাতে খড়ি ।তারপর থেকে সংগঠনের জন্যে নিরলস পরিশ্রম করে গোবিন্দ গন্জ ছাত্রলীগ কে উজ্জিবিত করি ।রাজনীতির ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাহিত্য সম্পাদক ও পরবর্তীতে থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হই ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক থাকা অবস্থায় জাপানের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের আমন্ত্রনে জাপানে যাই ।তারপর শুরু হয় জাপানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই ।সফলও হই সম্মানের সাথেই । ১৯৯৪ সালে জাপানেও নাগেয়া সিটি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হই ।১৯৯৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হঠাৎ করেই বন্ধুবান্ধব ও দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতার আগ্রহে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহনের উৎসাহ পাই । দলিও মনোনয়ন চেয়ে, না পেয়ে, স্থানিয় নেতাদের কিছু উস্কানি মুলক কথা শয্য করতে না পেরে হঠাৎ করেই সতন্ত্র নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল হয়ে যাই । তারুন্যের পিরাপিরিতে নির্বাচন করেও ফেলি । সেই থেকেই ফেরদৌস আলম রাজু ওরফে জাপান রাজু নামেই এলাকায় পরিচিতি আমার ।দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে যেমন দলের স্থানিয় নেতাদের থেকে দুরে সরে যাই তেমনি পিছিয়ে পরি স্থানিও রাজনীতি থেকেও ।এরপর কিছুদিন ব্যবসা বানিজ্যের দিকে মনোযোগ দেই ।পাশাপাশি কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগ এর সহযোগী সংগঠন আওয়ামী সংস্কৃতিক ফোরাম আসাফোর আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই । ২০০০ সালে গোবিন্দগন্জ পৌর আওয়ামীলীগ এর সম্মেলনে পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকারের উদ্দেগে পৌর কমিটির সদস্য পদ লাভ করি ।ইতিমধ্যে ঢাকায় থাকার কারনে কেন্দ্রিয় নেত্রীবৃন্দের সাথে সবসময় যোগাযোগ ও দলিও অনেক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বেশ পরিচিতি লাভ করি ।এলাকার রাজনীতিতে সম্পুর্ণ অংশগ্রহন না করলেও নীতি নির্ধারণে অনেকটাই অংশগ্রহন থাকতো । কিন্তু সম্পুর্ণ সময় দেওয়া হয়ে ওঠেনি এটাই সত্য । একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে আবারো স্থানিয় রাজনীতিতে নিজেকে সম্প্রিক্ত করে ফেলি । যদিও সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন কিনে আলোচনায় আসি কিন্তু ইচ্ছা ছিল উপজেলা নির্বাচন করার ।জননেত্রী শেখ হাসিনার গ্রাম কে শহর করার যে পরিকল্পনা বা তিনি যে শ্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তার অংশিদার হওয়ার । সেভাবেই মাঠে নেমে খুব অল্প সময়ে জনগনের কাছে চলে আসি , ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সমর্থনে নিজেকে অন্যরকম ভাবে আবিস্কার করি ।মানুষের মাঝে একটা পরিবর্তনের চাপা উত্তেজনা লক্ষো করে আমিও বেশ Confident হয়ে যাই । এত অল্প সময়ে এত ভালোবাসা ও সমর্থন পাবো যা আমার চিন্তারও বাহিরে ছিল । কিন্তু দলিও মনোনয়ন পেতে গেলে যে মাননীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার চোখে জরিপে এগিয়ে থাকতে হয় সেটা আমার ছিল না ।কারন জরিপ যখন হয় তখনো এলাকায় আমার কোন পোষ্টার বা প্রচারনা ছিল না ।যেটা দিয়ে খুব একটা ভালো রেজাল্ট করা যায় ।মাঠে নেমে আমি ওভার Confident হয়েছি, যদি প্রচারনার তিনটা মাস আমি হাতে সময় পেতাম তবে হয়তো অন্য রকম ভালো কিছু একটা হয়ে যেতে পারতো ।এই সল্প সময়ে আমার যত শুভাকান্খী সৃষ্টি হয়েছে , যত ভক্ত সৃষ্টি হয়েছে , যত ভালোবাসার মানুষ সৃষ্টি হয়েছে তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ । আমি কথা দিচ্ছি, যে ভালোবাসায় আপনারা আমাকে সিক্ত করেছেন আমি আপনাদের পাশে আছি আমি থাকবো ।তবে ভোটের রাজনীতি তে এসে কে আপন কে পর সেটাও চিনতে কষ্ঠ হয়নি ।যেটা আমার ভবিষ্যত রাজনীতিতে অত্যান্ত প্রয়োজন ছিল ।পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়নের দৌড়ে সংঙ্গী হিসেবে যে ছোট ভাই আব্দুল লতিফ প্রধান কে মনোনীত করেছেন আমরা সবাই তার পাশে থেকে নির্বাচনে জয়ী করে শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করবো সেটাই হোক আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ।এগিয়ে যাক বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে ।জয়বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু । ফেরদৌস আলম রাজু সহ সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গোবিন্দ গন্জ উপজেলা শাখা ।