খেলা গোবিন্দগঞ্জ সর্বশেষ সংবাদ

মেধাবী ও ক্ষুদে ক্রিকেটারের খোঁজে – ২০১৯

মোঃ নাসিব হোসেন (সিনিয়র রিপোটার):

গোবিন্দগন্জে উপজেলায় প্রথম বারের মতন মেধাবী ও প্রতিভাবান ক্রিকেটারের খোজে “হান্টিং প্রোগ্রাম” শেস করল জেলার ও উত্তরবংগের সবচেয়ে বরো ক্রিকেট একাডেমির একটি “ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি গাইবান্ধা”। বয়স ভিত্তিক (০৬ বছর থেকে ২২ বছর) এ প্রোগ্রামে প্রায় ১০০ জন তরুন খেলোয়ার ব্যাটিং, বোলিং, কিপিং বা অলরাউন্ডার হিসাবে প্রাথমিক বাছাই পর্বে অংশগ্রহন করলেন। ক্রিকেটের মান এবং গোবিন্দগন্জে “ক্রিকেট খেলার” পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এ প্রয়াশে প্রধান ভুমিকা পালন করলেন ইন্জি হাজী আবু খালিদ বিপ্লব (গ্রামীন মোবাইল কেয়ার, অনুউল্লাহ সুপার মার্কেট গোবিন্দগন্জ) এবং ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি।

গোবিন্দগঞ্জের মাঠে নিয়মিত ফুটবল গড়ালেও, ভাল খেলোয়ার বা নিয়মিত খেলাধুলার পরিবেশ  গড়ে তুলতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারী কোন উদ্দোক্তাই, দেশের সর্বস্তরের মানুষের  কাছে গোবিন্দগঞ্জ আজ “সুপরিচিত” শুধুমাত্র “রাজনৈতিক” অঙ্গনকে ঘিরেই ।খেলাধুলায়  বিশেস করে ক্রিকেটে কোন রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা প্রভাবশালী কোন উদ্দোক্তাকে দেখা যায়নি  যার হাত ধরে, যার প্রয়াসে গোবিন্দগন্জের মাঠে গরাবে ক্রিকেট, উন্নয়ন হবে খেলার মান কিংবা যুব সমাজ বাচবে নেশার হাত থেকে।

হান্টিং প্রোগ্রামে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করার সময়

গোবিন্দগন্জ হাইস্কুল কিংবা গোবিন্দগন্জ কলেজে খেলাধুলার জন্য নিদৃিস্ট বিভাগ থাকলেও তার  সঠিক ব্যাবহার দেখা যায়নি আজ অবধি। ফুটবলে গোবিন্দগন্জের খেলোয়াড়রা বেশ জনপ্রিয় আসে পাশে এমনকি রাজধানী ঢাকায় ও ফুটবলে নিয়মিত অনুশীলন  বা  দল  গঠন  করতে  দেখা  গেলেও “ক্রিকেটে” পাওয়া যায়নি কোন ধরনের মান উন্নয়ন, প্রতিযোগীতা, প্রতিভা অন্বেষন কিংবা কোন  নিদৃস্ট কোন দৃস্টান্ত যা থেকে পেতে পারে ভবিষ্যতে আমাদেরজাতীয় দল একটি ভাল ক্রিকেটার ।

আজ ক্রিকেটে সারা বিশ্বে “বাংলাদেশ” এক অনন্য নাম, খেলে যাচ্ছে আইসিসি পরিচালিত বিশ্বকাপক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুধু তাই নয় বিশ্বমানের ক্রিকেটার তৈরী করতে পেরেছেন আমাদের ক্রিকেট বোর্ড।এরকম অবস্থায় এইউপজেলায়, আমরা আজো পারিনি নিয়মিত ক্রিকেট বা প্রতিভাবান খেলোয়ার গরে তুলতে।  

আমাদের যুবসমাজকে বেশিরভাগ সময়েই স্মার্টফোনে বেটিং, ফেসবুক, ইউটিউব অথবা রাজনৈতীক অংগনেই “ক্ষমতার লরাই” এ ব্যাস্ত থাকতে দেখে আসছে উপজেলাবাসী।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে  আমরা চলছি পথ কিন্তু যেখেলাটিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ক্ষ্যাতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ,  সেই “ক্রিকেট” এবং যুবসমাজকে মাঠমুখি করতে পারিনি আমরা আজো।

হান্টিং প্রোগ্রাম অংশ নেয়া ক্ষুদে ক্রিকেটাররা

ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমী ২০১৫ সন থেকে মেধাবী ক্রিকেটের ও খেলার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। তারসূত্র ধরে ২০১৮ সনে ঢাকা লিগে অংশগ্রহণ করে গাইবান্ধা জেলার ১৬ সদস্যের একটি দল। যে দলটি তে গাইবান্ধা জেলার সকল খেলোয়াড়রা বিশেষ করে  (গোবিন্দগঞ্জ, মহিমাগঞ্জ, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ) এবং গাইবান্ধা সদরের তরুণ উদীয়মান খেলোয়াড় রা সুযোগ পায়।  একাডেমির মূল লক্ষ্য জেলার মেধাবী ও ক্ষুদে খেলোয়াড় দেড় নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের বিভিন্ন ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানো এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটের উপহার দেয়া।

ইতিমধ্যে একাডেমিটি আবাসিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং খেলার পাশাপাশি ছাত্রদের পড়াশুনার জন্য বিভিন্ন সুযোগ প্রদানের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন। আজকের প্রাথমিক বাছাই পর্ব শেষে, ৩ দিনের ফ্রি- ক্রিকেট প্রশিক্ষণ, জেলা ভিত্তিক, বয়স ভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়ী মেধাবী ক্রিকেটার তৌরির উদ্দেশ্য ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমী কাজ করে যাবে। হান্টিং প্রোগ্রাম থেকে শুধুমাত্র মেধাবী ও সম্ভাবনাময়ী তরুণরাই এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন এবং একাডেমির নিয়মিত ছাত্র হিসাবে গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে অংশ নিতে পারবেন।

অংশ নেয়া ক্রিকেটারগণ

আজকের হান্টিং প্রোগ্রামে কোচ – আসাদুল হাবিব সুজন, আয়োজক – আবু খালিদ বিপ্লব, ম্যাজিস্ট্রেট (জয়পুরহাট) – মনিরুল হাসান সরকার মিলন, মাইনিউজ৭১ এর প্রকাশক – আবু হেনা মোস্তফা কালাম (দিপু), রিপোর্টার – সুজন কুমার দেব ও মোঃ নাসিব হোসাইন (নসিব), প্রাক্তন ক্রিকেটার – হাবলু, মোমিন, এবং আরো গণ্যমান্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রাম শেষে প্রাথমিক বাছাই পর্বের ফলাফল আগামী ২৬ শে জানুয়ারী, শনিবার ২০১৯ সন্ধ্যার মধ্যে জানানোর ঘোষণা দেন দলের কোচ ও নির্বাচক – আসাদুল হাবিব সুজন। ভবিষ্যতে আরো বড় উদ্যোগ, গোবিন্দগঞ্জের মাঠে ক্রিকেট তথা খেলাধুলা গড়ানোর আশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অভিবাবকগণ এবং উপজেলার প্রাক্তন ক্রিকেটারগণ।